সারিয়াকান্দিতে ব্রয়লার মুরগির দর পতনে খামারিদের মাথায় হাত
বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে ব্রয়লার মুরগির বাজারে অস্বাভাবিক দর পতন হওয়ায় খামারিদের মাথায় হাত পড়েছে। ব্যাপক লোকসানের মুখে অনেকে তাদের মূলধন হারিয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে। সারিয়াকান্দি উপজেলায় দুই যুগ ধরে মুরগির খামারের ব্যাপক প্রসার লাভ করে। অনেক শিক্ষিত বেকার যুবক বিভিন্ন স্থান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে অতিকষ্টে মুরগির খামার গড়ে তোলেন।
সেখান থেকে প্রতিবছর লাভের মুখ দেখায় অনেক শিক্ষিত বেকার যুবকেরা ব্যাপক হারে ঝুকে পড়ে মুরগির খামারি ব্যবসায়। অনেকেই নিজেরা স্বাবলম্বী হয়ে পরিবারের দুঃখ দূর্দশা লাঘবের পাশাপাশি মুরগির মাংসের চাহিদা পূরণে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর হতে জানা গেছে, উপজেলায় খামারের প্রসার ঘটায় ১৩০টি খামার তালিকাভূক্ত হয়। এর বাইরেও বাড়ির আঙ্গিনাসহ আনাচে কানাচে যুবকেরা ছাড়াও মহিলারা গড়ে তোলেন অনেক বয়লার ও লেয়ার মুরগির খামার। কিন্তু গত একমাস ধরে হঠাৎ ব্রয়লার মুরগির দর পতন হওয়ায় খামারিরা লোকসানের মুখে পড়ে। এ কারণে এরই মধ্যে ২১টি খামার বন্ধ হয়েছে। খামারিরা জানান, প্রতিটি বাচ্চা ক্রয় থেকে শুরু করে বাজারজাত করা পর্যন্ত প্রতি কেজি মুরগিতে খরচ পড়ে কমপক্ষে ১২০ টাকা। মাস খানেক আগেও প্রতি কেজি মুরগি ১৩০ হতে ১৩৫ টাকা কেজি ধরে পাইকারি বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে দর পতনের কারণে সেই মুরগি পাইকারি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৯০ হতে একশত টাকা দরে। প্রতি কেজিতে একজন খামারিকে লোকসান গুণতে হচ্ছে ২০ হতে ২৫ টাকা। উপজেলার দেবডাঙা গ্রামের খামারি কামাল সরকার জানান, ৪ হাজার বয়লার মুরগির মধ্যে ২ হাজারটি ১৬/১৭ দিন আগে ৯০ হতে ৯৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে লোকসান হয়েছে প্রায় ১ লাখ টাকা। লোকসানের ভয়ে এখনও বাকি মুরগি বিক্রি করিনি। মুরগির ওজন বেড়ে এখন তিন কেজিতে দাঁড়িয়েছে।
বাজার দরের কোন পরিবর্তন না হওয়ায় এসব মুরগি নিয়ে এখন দুশ্চিন্তায় পড়েছি। সারিয়াকান্দি বাজারের খুচরা মুরগি বিক্রেতা বাবলু মিয়া জানান, এক মাস আগে প্রতি কেজি মুরগি ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে সেই মুরগি ১১০/১১৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মুরগির উৎপাদন বাড়লেও চাহিদা কমে গেছে।
সেই সাথে খামারিরা অতিরিক্ত গরমের কারনে মুরগি বিক্রি করে দিচ্ছে। ফলে বাজারে সরবারাহ বাড়ায় মুরগির দাম অস্বাভাবিক হারে কমে গেছে। মুরগির বাচ্চা ও খাদ্য সরবরাহকারী কোম্পানীর স্থানীয় প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম মুকুল জানান, খামারিদের লোকসানের কারণে অনেক খামারি তাদের খামার বন্ধ করে দিচ্ছে। ফলে আমাদের ব্যবসাতেও বর্তমানে মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিসার ডা: সাজেদুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে বাজারে মাছের সরবরাহ বেড়েছে। এছাড়াও কোরবানির ঈদ সামনে থাকায় অনেকে মাংস খাওয়া কমে দিয়েছেন। এ কারণে ব্রয়লার মুরগির চাহিদা কমে গেছে।

0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

 
কপি কন্টেন্ট বিডি © 2013. All Rights Reserved. Powered by Blogger
Top